সে এক অন্য যুগের কথা। যে যুগে মায়েরা ছিল সমাজ পরিচালনার দায়িত্বে। মায়ের ইচ্ছা অনিচ্ছা অনুসারে সমাজ পরিচালিত হত। সন্তানেরা মায়ের পরিচয়ে বড় হতো। এখন আর সেই যুগ নেই। এখন পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা মায়েদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। এখন পুরুষের ইচ্ছামতো সমাজ চলছে। কখন মায়েরা বড় ছিল, কখন বা কিভাবে মায়েদের স্থান পিতারা দখল করল, তার সাবলীল বর্ণনা রয়েছে এই বইটিতে। এতে লেখক ছোটদের উপযোগী করে সহজ ভাষায় কাহিনীর মতো করে সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাস বলে গেছেন। বইয়ের ভিতরে প্রথমে রয়েছে সিন্ধু সভ্যতার মাতৃমুর্তি'র ছবি। এরপর একাধিক ছবির ছক দিয়ে তিনি মাতৃপ্রধান সমাজের পরিচয় এবং পিতৃপ্রধান সমাজের পরিচয় পাঠকের সামনে সহজ করে তুলে ধরেছেন। মাত্র ৪৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ে কোন সূচীপত্র নেই। ধারাবাহিক ভাবে কথকের ভঙ্গিতে গল্প বলার মতো করে সমাজের ইতিহাস গড়িয়ে চলে। কোথাও হোচট খাবার জো নেই।
মোটা বর্ণে লেখা শিরোনামগুলি হলো:-
- এক আজব ঘড়ির হিসেব
- আলাদিনের প্রদীপের চেয়ে আশ্চর্য?
- খাদ্য-আহরণ থেকে খাদ্য-উৎপাদন
- কৃষিকাজ আর পশুপালন
- কৃষি আবিষ্কারের ফলে
- আবিষ্কারের অবকাশ আর আবিষ্কারের প্রয়োজন
- কার আবিষ্কার? পুরুষদের, না, মেয়েদের?
- ঘট-তৈরি, ঘর-তৈরি, কাপড়-বোনা
- পুরুষ-প্রধান সমাজ আর নারী-প্রধান সমাজ
- কামাখ্যার মেয়েরা জাদু জানে?
- ছেলের বদলে ভাগনে
- ছেলের বদলে জামাই
- প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র আর মাতৃপ্রধান সমাজের নানান চিহ্ন
- চীন, তিব্বত আর সুদূর প্রাচ্য
- মোহেনজোদারোর কথা
- ভারতীয় সভ্যতার কথা
এই বইয়ের সাথে আমার একটি অসাধারণ ও গর্বের স্মৃতি রয়েছে। সাধারণত লেখকরা অটোগ্রাফ খাতা এবং নিজ বই ছাড়া অন্যের লেখা বইতে অটোগ্রাফ দেন না। কিন্তু প্রখ্যাত হুমায়ুন আজাদ এই বইতে আমাকে অটোগ্রাফ দিয়েছেন। টিএসসিতে এক আলোচনা সভায় আমি কেমন করে জানি তার পাশে গিয়ে বসেছিলাম। তাকে দেখে শিহরিত হয়ে উঠেছিলাম। সঙ্গে সঙ্গে হাতে থাকা বইটি (কিছুক্ষণ আগেই কেনা) বাড়িয়ে দিতে তিনি বললেন 'কার বই'? লেখকের নাম 'দেবীপ্রসাদ' দেখে কিছু বললেন না। আমাকে উপদেশ দিয়েছিলেন বইটা যেন ভালভাবে পড়ি।



1 Comments